Skip to content

লবঙ্গের যত গুণ, অসাধারণ এক ঔষধি মশলা

লবঙ্গ উপকারিতা ও অপকারিতা_লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা

দেখতে ছোট লালচে বাদামী ফুলের কুঁড়ি মনে হলেও লবঙ্গ বেশ জনপ্রিয় একটি মসলা। যা বিভিন্ন রেসিপিতে স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। মূলত ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের গোড়ার দিকে জাভা থেকে চীনের হান-বংশের দরবারে প্রথমবারের মতো দেখা যায় এই লবঙ্গ। 

আমরা আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটিকে সাজিয়েছি লবঙ্গের পরিচিতি, লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা, লবঙ্গ খাওয়ার নিয়ম এবং লবঙ্গের ব্যবহার সম্পর্কিত বিস্তারিত গাইডলাইনের সাহায্যে। সুতরাং আমাদের সাথেই থাকুন। 

লবঙ্গ

আর্টিকেলের শুরুতে চলুন জেনে নেওয়া যাক লবঙ্গ কি বা এর পরিচিতি সম্পর্কে। মধ্যযুগের শেষের দিকে, ইউরোপে খাবার সংরক্ষণ, খাবারের সুগন্ধ বৃদ্ধি এবং পরিবেশনে বাড়তি আকর্ষণ দিতে ব্যবহার শুরু হয় এই লবঙ্গের। 

এক একটি লবঙ্গের গাছ উচ্চতার দিক দিয়ে ৮ থেকে ১২ মিটারের মতো হতে পারে। যারা লবঙ্গের চাষ করতে চান তাদের কিন্তু ভালো ফল পেতে অবশ্যই চারাগাছ রোপন করতে হবে বেশ ছায়াযুক্ত স্থানে। 

গাছ লাগানোর প্রায় ৫ বছর পর থেকে ফলন দেওয়া শুরু করে এই জনপ্রিয় মসলা-গাছ। চলুন এবারে লবঙ্গ সম্পর্কিত বেশকিছু বৈজ্ঞানিক এবং অজানা তথ্য কেবলমাত্র একটি চার্টের সাহায্যেই জেনে নেওয়া যাক: 

  • নাম: লবঙ্গ 
  • প্রজাতি: এস অ্যারোমেশিয়াম
  • পরিবার: মাইট্রেইস
  • জিন: সিজিজিয়াম
  • শ্রেণী: ম্যাগনোলিওপসিডা
  • স্বাদ: ঝাঁজালো এবং মিষ্টি
  • ভিন্ন নাম: ক্যারিওফিলাস অ্যারোমেটিকাস এল. এবং ইউজেনিয়া অ্যারোমেটিকা (L.) বেইল।
লবঙ্গ_লং এর উপকারিতা
লবঙ্গ (Photo by Canva)

লবঙ্গের গুণাগুণগুলি কি কি?

লবঙ্গের অনেক গুণাগুণ রয়েছে। এই যেমন ধরুন বিরিয়ানি, ডাল, তরকারি, স্যুপ এবং চায়ের মতো খাবারগুলিতে ব্যবহার করা লবঙ্গের জুড়ি মেলা ভার। খাবারকে বাড়তি স্বাদযুক্ত করতেই সাধারণত এই মসলা ব্যবহার করা হয়। 

আমরা যদি লবঙ্গের স্বাস্থ্যগত গুণাগুণের কথা চিন্তা করি সেক্ষেত্রে বলতে হবে এতে থাকা ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবারের কথা। যা আমাদের দেহের জন্যে অত্যন্ত উপকারী পুষ্টি উপাদান হিসাবে কাজ করে থাকে। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে সমৃদ্ধ এই মসলা কিন্তু টিস্যুর আঘাতে দ্রুত রক্ত ​​জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং সেই সাথে এই মসলা রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে। 

এছাড়াও লবঙ্গে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য সহ প্রচুর পরিমাণে যৌগ রয়েছে। যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ইউজেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং গ্যালিক অ্যাসিড। এসব যৌগ বা পুষ্টি উপাদান শরীর থেকে ক্ষতিকারক ফ্রি রাডিকেলগুলি দূর করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এসব যৌগ ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ সারাতেও যথেষ্ট ভুমিকা পালন করে থাকে। 

চলুন তবে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই লবঙ্গে ঠিক কোন কোন পুষ্টি উপাদান থাকছে এবং এই লবঙ্গ নিয়ে ঠিক কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি আপনার জেনে রাখা উচিত: 

লবঙ্গে আপনি যে যে পুষ্টি উপাদান পাবেন: 

  • ক্যালোরি 
  • ফ্যাট
  • মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট 
  • পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট 
  • কার্বোহাইড্রেট 
  • সুগার 
  • ফাইবার 
  • প্রোটিন 
  • সোডিয়াম 
  • পটাসিয়াম 

প্রতি ১০০ গ্রাম লবঙ্গতে রয়েছে: 

ক্যালোরি – ১৩৫১ কেজে বা ৩২৩ ক্যালোরি

ফ্যাট – ২০.৭ গ্রাম

মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট – ১.৪৭১ গ্রাম

পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট – ৭.০৮৮ গ্রাম

কার্বোহাইড্রেট – ৬১.২১ গ্রাম

সুগার – ২.৩৮ গ্রাম

ফাইবার – ৩৪.২গ্রাম

প্রোটিন – ৫.৯৮ গ্রাম

সোডিয়াম – ২৪৩ মিলিগ্রাম

কোলেস্টেরল – ০ মিলিগ্রাম

পটাসিয়াম – ১১০২ মিলিগ্রাম

লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা

মুদ্রার এপিট-ওপিট দুই পিটই থাকে। তবে এটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানলে সহজেই প্রয়োজন মেটানো যায়। লবঙ্গের ব্যাপারেও একই যুক্তি প্রযোজ্য। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা কি কি হতে পারে সে-সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য। 

লবঙ্গের উপকারিতা

শুরুতে চলুন আলোচনা করা যাক লবঙ্গের উপকারিতাগুলি কি কি হতে পারে সে-সম্পর্কে: 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি তাদের জন্য লবঙ্গ হতে পারে সেরা ঔষধি মসলা। গবেষণায় দেখা গেছে যে লবঙ্গ ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করে থাকে। 

সেই সাথে ইনসুলিনের কার্যকারিতা যাতে শতভাগ নিশ্চিত হয় সেদিকটাও সামলে নেয় এই লবঙ্গ। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

আপনি জেনে খুশি হবেন যে লবঙ্গের আশ্চর্যজনক উপাদান, ইউজেনল অনেক ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে খুব কার্যকর ভুমিকা পালন করে থাকে। সেই সাথে লবঙ্গের অ্যান্টি-ভাইরাল এবং রক্ত ​​পরিশোধন ক্ষমতা রক্তের বিষাক্ততা হ্রাস করে। 

যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অন্যতম শর্ত হিসাবে কাজ করে৷ সেই সাথে শ্বেত রক্তকণিকাকে সক্রিয় করে পুরো দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত করে এই লবঙ্গ। 

শরীরের ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া কমায়

মনে রাখবেন লবঙ্গে থাকা ইউজেনল শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী একটি উপাদান। যা শরীরে ব্যথা রিসেপ্টরকে সক্রিয় করে এবং এর ফলে শরীরের যেকোনো অংশে ব্যথা কমে আসে। 

এছাড়াও আপনাদের যাদের বাতের ব্যাথা এবং শরীরে জ্বালাপোড়ার সমস্যা রয়েছে তারা চাইলে লবঙ্গের সাহায্য নিতে পারেন। আশা করি বেশ উপকৃত হবেন। 

শ্বাস প্রশ্বাস সহজ করেঃ লং এর উপকারিতা

অনেকেরই শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত বিভিন্ন সমস্যা থাকে। এক্ষেত্রে সমাধান হিসাবে লবঙ্গের উপকারিতাকে কাজে লাগাতে পারেন। সোজা কথায় হুটহাট শ্বাসকষ্টের চিকিৎসার জন্য সবসময় লবঙ্গ হাতে রাখতে পারেন। এতে করে বিপদে ভালো সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

বিশেষ করে ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানিতে আক্রান্ত রোগীদের প্রায়ই শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। যা থেকে পরিত্রাণ পেতে লবঙ্গ মুখে দিয়ে রাখা যেতে পারে। 

তাছাড়া শ্বাসনালী পরিষ্কার করার জন্য আপনার চায়ে ১ টি বা ২ টি লবঙ্গ ছেড়ে দিতে পারেন। এছাড়াও মনে রাখবেন কাঁচা লবঙ্গ খেতে পারলে কিন্তু গলা ব্যাথাও কমে যাবে। 

রক্ত সঞ্চালন ক্ষমতা বাড়ায়

আপনার প্রতিদিনের খাবারে লবঙ্গ যোগ করতে পারেন। এতে করে আপনার রক্ত সঞ্চালন ক্ষমতা আগের চাইতে বেড়ে যাবে। কারণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, লবঙ্গ রক্তকে বিশুদ্ধ করতে পারে। সেই সাথে ত্বকের ভেতর থেকে এই লবঙ্গ মানবদেহে উজ্জ্বলতা প্রদান করে থাকে।

লবঙ্গ রক্ত সঞ্চালনে ভূমিকার ফলে এটি মিলনেও অনেক কার্যকারী, এটি যৌনাঙ্গের রক্ত সঞ্চালান বাড়াতে সাহায্য করে, যার ফলে দীর্ঘ মিলন করা সম্ভব। 

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম এই লবঙ্গ। সেই সাথে আপনি যদি মানসিক চাপ অনুভব করেন সেক্ষেত্রেও এই লবঙ্গকে খাবার তালিকায় রাখতে পারেন৷ আশা করি মানসিক চাপের কারণে দেখা দেওয়া স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যা সহজেই কেটে যাবে। 

ক্যান্সার প্রতিরোধ করেত

একজন স্বাস্থ্য-সচেতন ব্যাক্তি হিসাবে ক্যান্সার থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য বেশি করে লবঙ্গ খান। কারণ লবঙ্গে থাকা ইউজেনল শক্তিশালী অ্যান্টিকার্সিনোজেনিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী একটি উপাদান। 

যা প্রাথমিক পর্যায়ের ফুসফুসের ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে৷ 

দাঁতের ব্যথা ও মুখের দুর্গন্ধ দূর করে

দাঁতের ব্যথা, মাড়ির কালশিটে এবং মুখের ঘা এর বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে এই লবঙ্গ। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে লবঙ্গকে ডেন্টাল অ্যানেস্থেটিক হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। 

আপনার যদি হুট করে দাঁতের ব্যাথা উঠে সেক্ষেত্রে একটি লবঙ্গ দাঁতে চিবিয়ে রাখতে পারেন। এভাবে ১৫/১৬ মিনিট দাঁতে লবঙ্গ রাখতে পারলে বেশ কম সময়ে দাঁতের ব্যাথা সেরে যাবে।

এবং আরো মজার ব্যাপার হলো লবঙ্গ মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে ঝাদুর মতো কাজ করে। এটি প্রাকৃতিকভাবে এন্ট্রিব্যাক্টোরিয়াল হওয়াতে মুখের বাজে গন্ধ দূর করে।

এমন কি এটি সুগন্ধি জাতীয় হওয়াতে অনেকে মিলনের আগে এটি চিবিয়ে থাকে।

সাদা দাঁত
সাদা দাঁত (Photo by Canva)

হজমশক্তি বাড়ায়ঃ লং এর উপকারিতা

লবঙ্গ এনজাইম নিঃসরণকে বেশ কার্যকর করে তুলে। যা পরবর্তীতে মানবদেহের হজমশক্তি উন্নত করে এবং হজমের গতিশীলতা বাড়ায়। 

সুতরাং আজ থেকেই পেট ফাঁপা, গ্যাস্ট্রিক সমস্যা, ডিসপেপসিয়া এবং বমি বমি ভাব কমাতে লবঙ্গ খান। দেখবেন হজম সম্পর্কিত অর্ধেক রোগই হাওয়া হয়ে গেছে! 

লিভারের সমস্যা দূর করে

ইউজেনল, লবঙ্গের একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি যৌগ উপাদান। যা লিভারের স্বাস্থ্যের মারাত্মক উন্নতি করতে পারে। এক গবেষণার মতে, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড এবং বিটা-সিটোস্টেরল যৌগ একসাথেই পাওয়া যাবে এক একটি লবঙ্গতে। 

যা পরবর্তীতে লিভার সিরোসিসের বিরুদ্ধে কাজ করবে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, লিভারের সুস্বাস্থ্য সঠিকভাবে বজায় রাখতে লবঙ্গের ভুমিকা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ! 

হাড়ের সমস্যা দূর করে

মূলত শুকনো লবঙ্গের হাইড্রোঅ্যালকোহলিক নির্যাস পলিফেনল সমৃদ্ধ ঔষধ হিসাবে কাজ করে থাকে। যেমন ইউজেনল এবং ইউজেনল এক্সট্র্যাক্টিভস ইত্যাদি যৌগ। 

এ-সমস্ত যৌগ আবার হাড়ের ঘনত্ব দ্রুত বাড়িয়ে তুলে। এছাড়াও লবঙ্গে থাকা ম্যাঙ্গানিজ হাড়ের খনিজ ঘনত্ব সঠিকভাবে বজায় রাখতে সাহায্য করে। 

লবঙ্গের অপকারিতা

লবঙ্গের উপকারিতা সম্পর্কে তো জানা গেলো! কিন্তু আপনি কি জানেন অতিরিক্ত লবঙ্গ খেলে কি ক্ষতি হতে পারে? যদি না জেনে থাকেন তবে আমাদের আজকের আর্টিকেলে এই অংশটিতে মনোযোগ দিন: 

রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যায়

অতিরিক্ত লবঙ্গ খেলে কিন্তু রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যায়। যা স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি ঘটায়। ক্ষতি বলতে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে একজন সুস্থ মানুষের দেহে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। 

বমি দেখা দেয় এবং রক্ত পাতলা হয়ে যায়

অতিরিক্ত লবঙ্গ খাওয়ার প্রভাবে দেখা দিতে পারে একজন ব্যক্তির মাথা ঘোরা এবং বমি বমিভাবজনিত বিভিন্ন সমস্যা। এছাড়াও এতে থাকা ইউজেনল রক্তকে অনেক বেশি পাতলা করে ফেলে। 

জ্বালাপোড়া বেড়ে যায়

এছাড়াও যারা অতিরিক্ত পরিমাণে লবঙ্গ খেয়ে থাকে তাদের মাঝে নাক দিয়ে রক্ত ​​পড়া, মুখের ঘা, পেটে জ্বালাপোড়া বা জ্বালা এবং গলায় ফুসকুড়ি হওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। 

অ্যালার্জি বেড়ে যায়

যাদের এলার্জির সমস্যা রয়েছে তারা যদি অতিরিক্ত পরিমাণে লবঙ্গ খান তবে কিন্তু অ্যালার্জি বেড়ে যাবে। কারণ এতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যৌগগুলি দেহে অতিরিক্ত সরবরাহ করলেই অ্যালার্জি বেড়ে যায় বহুগুণে।

গর্ভবতী নারীর ক্ষতিসাধন 

গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মহিলাদের জন্য লবঙ্গ অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার বিষয়টি বিপদ ডেকে আনতে পারে। যদিও এ-নিয়ে সঠিক গবেষণা হয়নি। তবে সম্পূর্ণ ঝুঁকি এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক থাকা চাই। 

সুতরাং গরম মসলা হিসাবে লবঙ্গের উপকারিতা সঠিকভাবে পেতে অতিরিক্ত পরিমাণে লবঙ্গ খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। 

লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতাগুলি কি কি?

  • হাঁড়ের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে
  • দাঁতের ব্যাথা দূর করে দেয়
  • ক্যান্সার থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে
  • ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে
  • লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নত করে
  • ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
  • পেটের আলসার কমায় 

লবঙ্গ খাওয়ার নিয়ম

লবঙ্গ খাওয়ার আলাদা কোনো নিয়ম নেই। তবে লবঙ্গ বিভিন্ন রান্নার সাথে দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এই ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন সি, কে এবং ফাইবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ভাণ্ডারটিকে আপনি চাইলে রং চা, সাধারণ পানি ইত্যাদির সাথে সিদ্ধ করে খেতে পারেন। এছাড়াও লবঙ্গ তেলও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খাবার উপযুক্ত নয়! 

লবঙ্গ- রং চা
লবঙ্গ- রং চা (Photo by Canva)

লবঙ্গের ব্যবহারগুলি

লবঙ্গ বা লং নামের এই মসলাটিকে আপনি চাইলে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। চলুন তবে আপনাদের সুবিধার্থে জেনে নেওয়া যাক লবঙ্গের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার। 

রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন

লবঙ্গকে চাইলে বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ব্যবহারের ফলে রান্নার স্বাদ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। বিভিন্ন বেকিং রান্নার পাশাপাশি আপনি চাইলে বিভিন্ন ঝাল রেসিপির সাথে এই মসলা ব্যবহার করতে পারেন। 

তাছাড়া রং চা বানানোর ক্ষেত্রেও এই লবঙ্গ ব্যবহার করা কিন্তু আবশ্যক। সুতরাং অতিরিক্ত স্বাদ এবং পুষ্টির জন্যে আপনি আপনার সকালের চা তৈরি করার সময় কয়েকটি লবঙ্গ ছেড়ে দিতে পারেন। এছাড়াও ভাত রান্না করার সময় কয়েকটি লবঙ্গ ছেড়ে দিতে পারেন।

তেল হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন

আপনি কি জানেন, লবঙ্গকে তেল হিসাবেও ব্যবহার করা যায়? বিভিন্ন সুপার শপে আপনি এই লবঙ্গের তেল কিনতে পাবেন। তাছাড়া আপনি চাইলে ঘরে বসেও এই লবঙ্গের তেল তৈরি করে নিতে পারেন৷ লবঙ্গের তেল সাধারণত বেশ সুগন্ধযুক্ত হয়। 

যার ফলে এটি কীটনাশকসহ অন্যান্য যোকোনো পোকামাকড় দূর করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়া প্রচন্ড পরিমাণে দাঁতে ব্যাথা করলে এই তেল দিয়ে দাঁত ব্রাশ করে ফেলতে পারেন। আশা করি দাঁত ব্যাথা মুহুর্তেই মিলিয়ে যাবে। 

কাঁশির সমস্যা দূরীকরণে ব্যবহার করতে পারেন

সাধারণত লবঙ্গ কাশি, গলা ব্যথা এবং দাঁতের ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি একটি খুব সাধারণ ঘরোয়া প্রতিকার হিসাবে কাজ করলেও অনেকেই হয়তো এ-সম্পর্কে বিস্তারিত না জানার কারণে খুব একটা উপকার পায় না।

অতিরিক্ত কাশি নিরাময়ের জন্য গরম পানির সাথে লবঙ্গ হালকা সিদ্ধ করে তা পান করতে পারেন। দেখবেন আগের চাইতে অনেক ভালো অনুভুত হচ্ছে। এছাড়াও ব্যাথানাশক হিসাবে এই লবঙ্গ-পানি পান করতে পারেন। 

ত্বকের যত্ন ব্যবহার করা যেতে পারে

লবঙ্গ কিন্তু ত্বকের যত্নে বেশ উপকারি ভুমিকা পালন করে। বিশেষ করে যাদের ব্রণ রয়েছে তারা এই লবঙ্গ ব্যবহার করে বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারে। 

সোজা বাংলায় লবঙ্গ ত্বককে ডিটক্সিফাই করতে পারে। যা ত্বকের ব্রণ, দাগ এবং কালো দাগ কমাতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও এই লবঙ্গকে গুড়া করে উজ্জ্বল ত্বকের জন্য অনেক ভেষজ ফেস প্যাকেও ব্যবহার করা হয়

রিলেটেডঃ মেয়েদের মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায় ২০২৩

চুলে যত্নে ব্যবহার করা যায়

লবঙ্গের সাহায্যে তৈরি করা তেল মাথার ত্বক এবং চুলে যত্নে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে এবং চুলের বৃদ্ধি বাড়াতেও আপনি চাইলে এই তেল ব্যবহার করতে পারেন। প্রতি সপ্তাহের অন্তত ২/৩ তিন এই তেল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। আশা করি দ্রুত উপকৃত হবেন। 

শেষ কথা

আশা করি লং এর উপকারিতা বা লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত উপরোক্ত তথ্যগুলিই লবঙ্গের গুরুত্ব বোঝাতে যথেষ্ট হবে। আপনি কিন্তু প্রয়োজন মেটাতে চাইলে এই মশলাটির চাষ বাড়িতেই করতে পারেন। 

ছাদ বাগানে কিংবা উঠোনের এক কোণে এই লবঙ্গের গাছ রোপন করে হালকা যত্ন নিলেই চলবে। যাইহোক! পরবর্তী আর্টিকেল উপভোগ করার অনুরোধ জানিয়ে আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি। 

ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Reply